বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি: বড় ভাই হানিফ আহমেদের সন্ধানে বাড়িতে এসে তাকে না পেয়ে ছোট ভাই হাসান আহমেদ (২০) কে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ১২টার মধ্যে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আকাখাজানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান আহমেদ কুড়ার বাজার এলাকার উত্তর আকাখাজানা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাছিতের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সময় হাসান বাড়ির একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। তার বাবা-মা তখন বাড়ির বাইরে ছিলেন। রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ১২টার মধ্যে ৩-৪ জন ব্যক্তি হানিফ আহমেদকে খুঁজতে তাদের বাড়িতে যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হানিফ আহমেদ পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং দলটির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, তার রাজনৈতিক পরিচয় ও সম্পৃক্ততার কারণে তাকে খুঁজতেই ওই ব্যক্তিরা বাড়িতে এসেছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, আগত ব্যক্তিরা বাড়ির বাম পাশের স্টিলের একটি জানালা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা হাসানকে ঘুম থেকে তুলে হানিফ কোথায় রয়েছেন জানতে চায়। জবাবে হাসান জানান, বড় ভাইয়ের অবস্থান তার জানা নেই এবং হানিফের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগও নেই।
তবে তার এ বক্তব্যে হামলাকারীরা সন্তুষ্ট হয়নি বলে পরিবারের দাবি। তারা ঘরের বিভিন্ন জায়গায় হানিফকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে হাসানকে দিয়ে তার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলানো হয়। ফোনে তার বাবাও হানিফের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
পরিবারের অভিযোগ, এরপর বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তিরা হাসানের ওপর ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে বলে জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির। তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ২০ বছর বয়সী হাসানকে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, হাসান শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিলেন। বড় ভাইয়ের সঙ্গে কারও বিরোধ থাকলেও সেই বিরোধের কারণে বাড়িতে ঢুকে ছোট ভাইকে হত্যা করা অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এ/বা/অ/র/ই